কিশোরগঞ্জের নিকলীতে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর, ১৫ই পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ) সকাল ৬টায় নিকলী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এটিই চলতি শীত মৌসুমে এখন পর্যন্ত দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিকলী পর্যবেক্ষণাগারের সিনিয়র অবজারভার আখতার ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আগামী কয়েকদিন রাতের তাপমাত্রা আরও হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং শীতের এই তীব্রতা অব্যাহত থাকতে পারে।
হঠাৎ তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রির নিচে নেমে আসায় নিকলী ও আশপাশের এলাকায় শীতের দাপট ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে বিভিন্ন স্তরের মানুষের ওপর
বিপর্যস্ত সাধারণ জীবন: ভোর থেকে ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসের কারণে সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হতে হিমশিম খাচ্ছেন।
ঝুঁকিতে শিশু ও বয়স্করা: তীব্র ঠান্ডায় শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়াসহ শীতকালীন রোগের প্রকোপ বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন স্বজনরা। শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ: কনকনে ঠান্ডার কারণে ভোরে কাজে বের হতে পারছেন না দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ। ফলে নিম্নআয়ের মানুষের আয়ে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
শীতের এই তীব্রতা থেকে বাঁচতে এবং সুস্থ থাকতে নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখা জরুরি: উষ্ণ পোশাক পরিধান: বাইরে বের হওয়ার সময় অবশ্যই পর্যাপ্ত গরম কাপড়, কানটুপি ও মাফলার ব্যবহার করুন। লেয়ারিং বা একাধিক পাতলা কাপড় একসাথে পরলে বেশি গরম অনুভূত হয়। খাদ্যাভ্যাস: শরীরে উষ্ণতা ধরে রাখতে কুসুম গরম পানি পান করুন। আদা চা, মধু ও ভিটামিন-সি যুক্ত ফলমূল বেশি করে খান।
আগুনে সতর্কতা: গ্রামাঞ্চলে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের সময় অসাবধানতায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকতে হবে। ত্বকের যত্ন: অতিরিক্ত ঠান্ডায় ত্বক ফেটে যাওয়া রোধ করতে লোশন বা গ্লিসারিন ব্যবহার করুন।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস: আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, উত্তর দিক থেকে আসা হিমেল বাতাসের প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নদী অববাহিকায় কুয়াশার ঘনত্ব আরও বাড়তে পারে।