স্বাধীন ৭১
স্বাধীন ৭১
স্বাধীন ৭১
Logo
প্রিন্টের তারিখ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রি. | প্রকাশের তারিখ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রি.
সংবাদ শিরোনাম : অভাবের মাঝে নির্মল আনন্দ: কিশোরগঞ্জে দুই শিশুর মুখে হাসি ফোটালেন ইউএনও
এক নজরে : দৈনন্দিন দাপ্তরিক ব্যস্ততার মাঝেও এক অনন্য মানবিকতার নজির স্থাপন করলেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. কামরুল হাসান মারুফ।​প্রতিদিনের মতো পথ চলার সময় হঠাৎ...
অভাবের মাঝে নির্মল আনন্দ: কিশোরগঞ্জে দুই শিশুর মুখে হাসি ফোটালেন ইউএনও
Watermark Logo
দৈনন্দিন দাপ্তরিক ব্যস্ততার মাঝেও এক অনন্য মানবিকতার নজির স্থাপন করলেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. কামরুল হাসান মারুফ।

​প্রতিদিনের মতো পথ চলার সময় হঠাৎ করেই রাস্তার পাশে থাকা দুই শিশুর দিকে চোখ আটকে যায় ইউএনও মো. কামরুল হাসান মারুফের। বড় শিশুটির বয়স আনুমানিক ৯-১০ বছর, পরনে জীর্ণ ও ছেঁড়া জামা। নিজ অতি ক্ষুদ্র হাত দুটো দিয়ে সে শক্ত করে ধরে রেখেছিল আরও ছোট এক ভাইয়ের হাত। অভাবের তাড়নায় খাবার সংগ্রহের জন্য একটি হোটেলের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল তারা।
​দৃশ্যটি দেখে নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি নির্বাহী কর্মকর্তা। সাথে সাথেই এগিয়ে যান শিশু দুটির কাছে এবং কথা বলেন তাদের সাথে। জানা যায়, বড় শিশুটির নাম সাব্বির। সে স্থানীয় যশোদল ইউনিয়নের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পড়াশোনার বয়সেই তাকে মুখোমুখি হতে হচ্ছে জীবনের কঠিন ও নির্মম বাস্তবতার।

​সাব্বিরের পরিবার সূত্রে জানা যায়, তার বাবা-মা দুজনই দীর্ঘ দিন ধরে অসুস্থ এবং শারীরিকভবে কর্মক্ষম নন। ফলে পুরো পরিবারের জীবিকার ভার এসে পড়েছে তাদের ১৮-১৯ বছর বয়সী বড় ভাইটির ওপর, যিনি রাজমিস্ত্রির কাজ করে কোনোমতে সংসারের ভরণপোষণ চালিয়ে যাচ্ছেন।

​শিশুটির ছেঁড়া পোশাকের দিকে তাকিয়ে সহানুভূতিশীল কণ্ঠে ইউএনও জিজ্ঞেস করেন, "তোমাদের জামাটা তো ছেঁড়া, নতুন জামা দেই একটা?" কোনো দীর্ঘ আবদার বা কথামালা ছিল না, কেবল মৃদু মাথা নেড়ে সম্মতি জানায় সাব্বির।
​পরবর্তীতে ইউএনও মো. কামরুল হাসান মারুফ দুই ভাইয়ের পছন্দ অনুযায়ী তাদের জন্য নতুন জামা ও প্যান্ট কিনে দেন। নতুন পোশাক হাতে পাওয়ার পর সাব্বিরের মুখে ফুটে ওঠে এক নির্মল হাসি। সেই হাসিতে যেন লুকিয়ে ছিল দীর্ঘদিনের অভাব ভুলে থাকার আনন্দ, বিস্ময় আর এক অদম্য তৃপ্তি। নতুন জামা পরে যখন সাব্বির তার ছোট ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে হাসছিল, তখন পুরো পরিবেশটি এক অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী দৃশ্যে রূপ নেয়।
​কোনো আনুষ্ঠানিকতা, সরকারি আয়োজন কিংবা প্রচারণার উদ্দেশ্য ছাড়াই সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সংবেদনশীলতা ও দায়িত্ববোধ থেকে অসহায় এই শিশুদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এই মানবিক মুহূর্তটির কথা তুলে ধরেন ইউএনও।

​ঘটনাটি স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। এটি আবারও প্রমাণ করল, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সর্বদা বড় কোনো আয়োজনের প্রয়োজন হয় না—সামান্য আন্তরিকতা, ভালোবাসার স্পর্শ এবং সঠিক সময়ে বাড়িয়ে দেওয়া একটি হাতই পারে পথচলতি কোনো নিষ্পাপ শিশুর মুখে অমলিন হাসি ফুটিয়ে তুলতে।
এই খবরের বিস্তারিত পড়তে স্ক্যান করুন : © সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বাধীন ৭১ | সকল কারিগরী সহযোগিতায়ঃ স্বাধীন আইটি সল্যুশন