স্বাধীন ৭১
স্বাধীন ৭১
স্বাধীন ৭১
Logo
প্রিন্টের তারিখ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রি. | প্রকাশের তারিখ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রি.
সংবাদ শিরোনাম : দীর্ঘ এক মাস পর দেশে ফিরল সৌদি প্রবাসী শাকিলের মরদেহ
এক নজরে : সৌদি আরবে মৃত্যুবরণ করা কিশোরগঞ্জের তরুণ প্রবাসী শাকিলের মরদেহ দীর্ঘ এক মাস অপেক্ষার পর অবশেষে নিজ বাড়িতে ফিরেছে। আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতায় মরদেহ দেশে আনা নিয়ে যখন পরিবার দিশেহারা,...
দীর্ঘ এক মাস পর দেশে ফিরল সৌদি প্রবাসী শাকিলের মরদেহ
Watermark Logo
সৌদি আরবে মৃত্যুবরণ করা কিশোরগঞ্জের তরুণ প্রবাসী শাকিলের মরদেহ দীর্ঘ এক মাস অপেক্ষার পর অবশেষে নিজ বাড়িতে ফিরেছে। আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতায় মরদেহ দেশে আনা নিয়ে যখন পরিবার দিশেহারা, তখন প্রতিমন্ত্রী শরিফুল আলমের বিশেষ হস্তক্ষেপে সরকারি খরচে তা দেশে আনা সম্ভব হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ শহরের হয়বত নগর এলাকার বাসিন্দা মো. ফারুক মিয়ার ছেলে শাকিল (২২)। পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে তিনি সৌদি আরবের রিয়াদে পাড়ি জমিয়েছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেখানে কর্মরত অবস্থায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর পর মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়াটি বিভিন্ন আইনি জটিলতায় আটকা পড়ে। এমতাবস্থায় শোকার্ত পিতা মো. ফারুক মিয়া প্রতিমন্ত্রী শরিফুল আলমের শরণাপন্ন হন। মানবিক দিক বিবেচনায় নিয়ে প্রতিমন্ত্রী দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন এবং সরকারি খরচে মরদেহ দেশে আনার সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।

শনিবার রাতে বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে শাকিলের মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। রবিবার বাদ জোহর হয়বত নগর সাহেব বাড়ি জামে মসজিদে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়েছে। শাকিলের এই অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার পরিবার দ্রুততম সময়ে মরদেহ ফিরিয়ে আনার জন্য প্রতিমন্ত্রীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

শাকিলের এই অকাল প্রস্থান প্রবাসীদের কষ্টের চিত্রটিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। এ প্রসঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সম্মান: নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে যারা প্রবাসের তীব্র কষ্ট আর একাকীত্বকে সঙ্গী করে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখেন, তারাই প্রকৃত রেমিট্যান্স যোদ্ধা। শাকিলের অকাল মৃত্যু আমাদের আবারও মনে করিয়ে দিল যে, প্রবাসীদের ঘাম ও ত্যাগের বিনিময়েই গড়ে উঠছে আমাদের জাতীয় উন্নয়নের ভিত্তি।

​রাষ্ট্রের অভিভাবকসুলভ দায়িত্ব: রেমিট্যান্স যোদ্ধারা শুধু বৈদেশিক মুদ্রাই পাঠান না, তারা বিদেশের মাটিতে দেশের সম্মানকেও উজ্জ্বল করে রাখেন। তাই তাদের বিপদে পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। শাকিলের মরদেহ ফিরিয়ে আনার এই উদ্যোগ প্রবাসীদের প্রতি রাষ্ট্রের সেই অভিভাবকসুলভ দায়িত্ববোধেরই বহিঃপ্রকাশ।

​সচেতনতার আহ্বান: প্রবাস জীবন মানেই শুধু রঙিন স্বপ্ন নয়, কখনও কখনও তা হয়ে ওঠে এক দীর্ঘ লড়াইয়ের নাম। শাকিলের মতো আর কোনো তরুণ যেন প্রবাসে অবহেলিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে প্রবাসে যাওয়ার আগে যথাযথ প্রস্তুতি এবং সংশ্লিষ্টদের আরও বেশি সচেতন ও তৎপর হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
এই খবরের বিস্তারিত পড়তে স্ক্যান করুন : © সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বাধীন ৭১ | সকল কারিগরী সহযোগিতায়ঃ স্বাধীন আইটি সল্যুশন