স্বাধীন ৭১
স্বাধীন ৭১
স্বাধীন ৭১
Logo
প্রিন্টের তারিখ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রি. | প্রকাশের তারিখ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রি.
সংবাদ শিরোনাম : কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেসে অনিয়মের পাহাড়: প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় ক্যটারিং ম্যানেজারের ঔদ্ধত্য
এক নজরে : কিশোরগঞ্জ ও ঢাকার মধ্যে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষের ভ্রমণ সহজ ও আরামদায়ক করতে ২০১৩ সালের ১ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছিল ‘কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস’। কিন্তু গৌরবময় পথচলার এক...
কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেসে অনিয়মের পাহাড়: প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় ক্যটারিং ম্যানেজারের ঔদ্ধত্য
Watermark Logo
কিশোরগঞ্জ ও ঢাকার মধ্যে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষের ভ্রমণ সহজ ও আরামদায়ক করতে ২০১৩ সালের ১ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছিল ‘কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস’। কিন্তু গৌরবময় পথচলার এক যুগের মাথায় এসে একশ্রেণীর অসাধু রেলকর্মী ও আউটসোর্সিং স্টাফদের সিন্ডিকেটের কারণে ট্রেনটি এখন চরম অব্যবস্থাপনার শিকার। ফলে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে, আর চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ টিকিটধারী যাত্রীরা।

​খাবার বগি যেন ‘অবৈধ যাত্রী’র নিরাপদ আস্তানা
​অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ট্রেনটিতে টিকিটবিহীন যাত্রী বহনের এক বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। আর এই অবৈধ যাত্রী বাণিজ্যের অন্যতম নিরাপদ আস্তানা হয়ে উঠেছে ট্রেনের ‘খাবার বগি’ (ক্যাটারিং কার)। যেখানে যাত্রীদের আরামদায়ক খাবারের পরিবেশ থাকার কথা, সেখানে গাদাগাদি করে তোলা হচ্ছে বিনা টিকিটের অবৈধ যাত্রী।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, এই অনৈতিক বাণিজ্যের সাথে শুধু ক্যাটারিং সার্ভিসের কর্মীরাই নন, বরং ট্রেনের এটেনডেন্ট এবং পাওয়ার কারের দায়িত্বে থাকা রেলওয়ের কিছু প্রকৌশলীও প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত।হাতেনাতে ধরেও মিলল ঔদ্ধত্য, প্রভাবশালীদের নাম ভাঙানোর চেষ্টা
​সম্প্রতি খাবার বগিতে অবৈধ যাত্রী পরিবহনের সময় হাতেনাতে ধরা পড়েন ক্যাটারিং সার্ভিসের স্টাফরা। অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে সৎ উত্তর না দিয়ে উল্টো প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় দাপট দেখান সহকারী ম্যানেজার মোখলেস উদ্দিন। তিনি সাংবাদিকদের সামনেই চরম ঔদ্ধত্য প্রকাশ করে বলেন,

​"আমার গাড়ি, আমি যাত্রী নেব নাকি খাবার রাখব—সেটা সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত বিষয়!"

​একজন ক্যাটারিং সহকারী কীভাবে ট্রেনের ভেতরে নিজের একক আধিপত্য দাবি করেন এবং অদৃশ্য প্রভাবশালীদের ভয় দেখিয়ে এসব অনিয়ম করেন, তা নিয়ে এখন খোদ রেলযাত্রী ও সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

​প্রমাণ দেখালে ম্যানেজারের ‘ডিফেন্সিভ’ রূপ ও মিথ্যার আশ্রয় এই বিষয়ে কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেসের মূল ক্যাটারিং সার্ভিস ম্যানেজার আনোয়ার এবং তার সহকারী ম্যানেজার মোখলেস উদ্দিন-এর সাথে সরাসরি কথা বলা হলে এবং তাদের অপকর্ম ও অবৈধভাবে যাত্রী পরিবহনের সমস্ত ভিডিও ও ডকুমেন্ট দেখানো হলে, ম্যানেজার আনোয়ার উল্টো সুর ধরেন। তিনি বিষয়টিকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে বলেন, "এসব দুই-একজন যাত্রী পরিবহন করলে সমস্যা হবে না।"

​শুধু তাই নয়, নিউজ না করার জন্য চাপ প্রয়োগ করে আনোয়ার দাবি করেন, "এক প্রভাবশালী মহলের সাথে আমার ভালো পরিচয় আছে। আমি কথা বলছি, আপনি নিউজ করবেন না, উনি বিষয়টি দেখবেন।"

​এরপর নিজেদের পিঠ বাঁচাতে আমাদের সামনেই সেই কথিত প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং স্থানীয় কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তিকে ম্যানেজার আনোয়ার বারবার কল দিলেও কেউ তার কল রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মূলত প্রভাবশালীদের নাম ভাঙিয়ে এবং ভুয়া প্রভাব খাটিয়ে কিশোরগঞ্জ থেকে দীর্ঘদিন ধরে বিনা টিকিটে যাত্রী পরিবহন করে আসছিল এই চক্র। আর এই অবৈধ বাণিজ্যে সহকারী মোখলেস উদ্দিন এক ধাপ এগিয়ে থেকে পুরো বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করছেন।

​এসব অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিষয়ে কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার খলিলুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি বলেন,

​"এই ধরনের অনিয়ম রুখতে আমি নিজেই প্রায় সময় প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে তদারকি করি। কিন্তু ট্রেনের ভেতরের স্টাফদের এই সিন্ডিকেট ভাঙতে হলে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। আপনারা সাংবাদিকরা যেভাবে তথ্য ও প্রমাণ দিয়ে সহযোগিতা করছেন, তা প্রশংসনীয়। আমি এই গুরুতর অনিয়মের বিষয়টি দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানাব এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করব।"

​ভুক্তভোগী যাত্রীদের দাবি, রেলওয়ের রাষ্ট্রীয় সম্পদকে যারা ব্যক্তিগত বাণিজ্যের হাতিয়ার বানিয়েছে এবং প্রভাবশালী মহলের নাম ভাঙিয়ে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করছে, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে বিভাগীয় ও আইনি কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এই খবরের বিস্তারিত পড়তে স্ক্যান করুন : © সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বাধীন ৭১ | সকল কারিগরী সহযোগিতায়ঃ স্বাধীন আইটি সল্যুশন