স্বাধীন ৭১
স্বাধীন ৭১
স্বাধীন ৭১
Logo
প্রিন্টের তারিখ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬ খ্রি. | প্রকাশের তারিখ: ০৪ অক্টোবর ২০২৬ খ্রি.
সংবাদ শিরোনাম : অনলাইন জুয়ার মরণফাঁদ: কিশোরগঞ্জ মডেল থানা ও র‍্যাব-১৪’র কঠোর অভিযান চায় এলাকাবাসী
এক নজরে : কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ৫ নং যশোদল ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের কাটাখালী গ্রাম এখন অনলাইন জুয়ার অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে। সন্ধ্যা নামলেই কাটাখালী বাজারে ভিড় জমান স্থানীয় যুবক ও বয়স্কদের একটি...
অনলাইন জুয়ার মরণফাঁদ: কিশোরগঞ্জ মডেল থানা ও র‍্যাব-১৪’র কঠোর অভিযান চায় এলাকাবাসী
Watermark Logo
কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ৫ নং যশোদল ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের কাটাখালী গ্রাম এখন অনলাইন জুয়ার অভয়াশ্রমে পরিণত হয়েছে। সন্ধ্যা নামলেই কাটাখালী বাজারে ভিড় জমান স্থানীয় যুবক ও বয়স্কদের একটি অংশ। স্মার্টফোনের স্ক্রিনে বুঁদ হয়ে তারা মেতে ওঠেন সর্বনাশা অনলাইন ক্যাসিনো খেলায়। সহজ উপায়ে টাকা আয়ের নেশায় প্রলুব্ধ হয়ে তারা এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।

​স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সচেতন এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন সূর্যাস্তের পর থেকেই কাটাখালী বাজারে শুরু হয় এই জুয়ার আসর। অনলাইন জুয়া বা ক্যাসিনোর নেশা পরিবারগুলোতে চরম অস্থিরতা ও অশান্তি সৃষ্টি করছে। জুয়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে অনেক যুবক ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছে, আবার কেউ কেউ জড়িয়ে পড়ছে  বিভিন্ন  অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে। 
​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, "এই জুয়ার কারণে এলাকায় সামাজিক পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। যুবকরা পড়াশোনা বা কর্মসংস্থান ছেড়ে এই জুয়ায় সময় ও টাকা নষ্ট করছে।

বয়স্করাও এই নেশায় আসক্ত হয়ে পরিবারকে পথে বসাচ্ছেন। আমরা এই অভিশাপ থেকে মুক্তি চাই।"
​এলাকাবাসী মনে করেন, অবিলম্বে কঠোর আইনি পদক্ষেপ না নিলে সামাজিক শৃঙ্খলা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জ মডেল থানার সুযোগ্য ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঁইয়া এবং র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব-১৪, সিপিসি-২)-এর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

​তারা আশা করছেন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত অভিযান চালিয়ে কাটাখালী বাজারসহ আশেপাশের এলাকায় চলমান এই অনলাইন জুয়ার আস্তানাগুলো গুঁড়িয়ে দেবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

সমাজবিজ্ঞানী বা অপরাধ বিশেষজ্ঞের দৃষ্টিভঙ্গিতে 
অনলাইন জুয়া কেবল একটি ব্যক্তিগত অভ্যাসের বিষয় নয়, এটি একটি সামাজিক বিষবাষ্প। যখন একটি গ্রামের বাজার কেন্দ্রিক আড্ডা অপরাধের আখড়ায় পরিণত হয়, তখন সেটি পুরো এলাকার সামাজিক স্থিতিশীলতাকে ধসিয়ে দেয়। বর্তমান ডিজিটাল যুগে এই জুয়াড়ু চক্রগুলো অত্যন্ত কৌশলে তরুণদের লিপ্ত করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে অপরাধ প্রবণতা ও পারিবারিক বিচ্ছেদের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।"

স্থানীয় সচেতন নাগরিক বা জনপ্রতিনিধির দৃষ্টিভঙ্গিতে,কাটাখালীর মতো একটি শান্ত এলাকায় এভাবে প্রকাশ্যে অনলাইন জুয়ার আসর বসবে—এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা চাই, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নিক। তবে শুধু পুলিশ দিয়ে এটি নির্মূল সম্ভব নয়; অভিভাবক এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিতভাবে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। যুবসমাজকে রক্ষা করতে হলে এখনই কঠোর হাতে এই চক্রকে দমন করতে হবে।"

​অঞ্চলটিকে জুয়ামুক্ত করতে এবং উঠতি বয়সের তরুণদের অন্ধকার পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন ও এলাকাবাসীর সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।
এই খবরের বিস্তারিত পড়তে স্ক্যান করুন : © সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ স্বাধীন ৭১ | সকল কারিগরী সহযোগিতায়ঃ স্বাধীন আইটি সল্যুশন