কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসায় চরম অবহেলায় সাফওয়ান নামের সাড়ে পাঁচ মাস বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। মুমূর্ষু অবস্থায় বারবার আকুতি জানানো সত্ত্বেও শিশুটিকে সময়মতো অক্সিজেন ও প্রয়োজনীয় সেবা না দেওয়ার দাবি করেছেন স্বজনেরা।
গত-শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে এ হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। নিহত সাফওয়ান জেলা শহরের শোলাকিয়া এলাকার মাছ ব্যবসায়ী মিঠুন মিয়ার ছেলে।
বৃহস্পতিবার মারাত্মক শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে শিশু সাফওয়ানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে শিশুটির শ্বাসকষ্ট হঠাৎ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যায়।
আশঙ্কাজনক অবস্থা দেখে দ্রুত অক্সিজেন সহায়তার জন্য স্বজনেরা কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের কাছে বারবার ছোটাছুটি ও আকুতি জানান। অভিযোগ উঠেছে, বারবার বলা সত্ত্বেও সে সময় কেউ এগিয়ে আসেননি।
একপর্যায়ে স্বজনেরা ক্ষোভে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে একজন চিকিৎসক এগিয়ে আসেন। তবে ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায় এবং শিশু সাফওয়ান মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
ঘটনার পর চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
ভারপ্রাপ্ত পরিচালক, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ডা. সাইফুল ইসলাম, সাংবাদিকদের জানান
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। তদন্তে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর হাসপাতালে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ ও রোগীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, সরকারি এই হাসপাতালে সেবার নামে অবহেলা ও চরম অব্যবস্থাপনা এখন নিত্যদিনের চিত্রে পরিণত হয়েছে।
সাধারণ মানুষ আক্ষেপ করে বলছেন-রোগী নিয়ে হাসপাতালে আসি জীবন বাঁচাতে, কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্তদের চরম উদাসীনতা ও সেবার অভাব আমাদের প্রিয়জনকে উল্টো মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
একের পর এক এমন অপ্রীতিকর ও মর্মান্তিক ঘটনায় দেশের স্বাস্থ্যসেবার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থা আজ তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।
এমন পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী পরিবার ও সুশীল সমাজ জোর দাবি জানিয়েছেন
তদন্ত বা প্রতিশ্রুতি শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না রেখে জরুরি বিভাগ ও উক্ত হাসপাতালের প্রত্যেকটি ওয়ার্ডে ২৪ ঘণ্টা সার্বক্ষণিক তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।
চিকিৎসায় অবহেলা ও গাফিলতিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।
স্বাধীন একাত্তর