ভোলা জেলার মনপুরা উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ইউনিয়ন কলাতলী—নদীর বুকে জেগে ওঠা একটি জনপদ। এখানে বসবাস করছে হাজার হাজার পরিবার। কিন্তু স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে গেলেও এই চরের মানুষ আজও রয়ে গেছে উন্নয়নের মূলধারার বাইরে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।
কলাতলী চরের সবচেয়ে বড় সংকট যোগাযোগ ব্যবস্থা। বর্ষা মৌসুম এলেই চরটি কার্যত মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। নৌকাই একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম হলেও তা ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিয়মিত। ফলে জরুরি প্রয়োজনে, বিশেষ করে রোগী পরিবহনে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় স্থানীয়দের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চরে পর্যাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। শিশুদের নিয়মিত স্কুলে যাওয়া সম্ভব হয় না। শিক্ষক সংকট ও যাতায়াত সমস্যার কারণে পাঠদান ব্যাহত হয়। ফলে অল্প বয়সেই অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে শিক্ষার আলো থেকে।
স্বাস্থ্যসেবার চিত্র আরও ভয়াবহ। কলাতলী ইউনিয়নে নেই কোনো স্থায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্র। অসুস্থ হলে নৌকা কিংবা স্পিডবোটে করে উপজেলা সদরে যেতে হয়। গর্ভবতী নারী ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে এটি প্রাণঘাতী ঝুঁকি তৈরি করছে। স্থানীয়দের দাবি, সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে অতীতেও একাধিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
কলাতলী চরের বাসিন্দা মিজান বলেন,
“রোগী হলে নৌকা না পেলে বাঁচার উপায় নেই। ডাক্তার আসে না, শুধু আশ্বাসই শুনি।”
বিশুদ্ধ পানির সংকটও চরম আকার ধারণ করেছে। অধিকাংশ মানুষ নদীর পানি ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন। এর ফলে নারী ও শিশুরা ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ নানা পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
এ বিষয়ে মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু মুছা জানান, কলাতলী চর একটি বিচ্ছিন্ন এলাকা হওয়ায় ধাপে ধাপে উন্নয়ন কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন,
“চরবাসীদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা এবং যোগাযোগ উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যায়ক্রমে এসব বাস্তবায়ন করা হবে।”
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—এই পরিকল্পনা কবে বাস্তবে রূপ নেবে? প্রতিবছর কেন শুধু আশ্বাসেই কাটছে কলাতলী চরের মানুষের জীবন?
সচেতন মহল মনে করেন, কলাতলী চরের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে জরুরি ভিত্তিতে নৌ-অ্যাম্বুলেন্স চালু, স্থায়ী চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন, চরভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং নিরাপদ পানির টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
জনস্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি—কলাতলী চরের মানুষ যেন আর অবহেলার শিকার না হয়। তাদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে এখনই কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
মোঃ ফয়েজ উদ্দিন