ঢাকাই সিনেমার মহীরুহ ছিলেন রাজ্জাক। নায়করাজ খ্যাত এই অভিনেতা দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নিজের অভিনয় দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন ঢালিউড; সেই সঙ্গে অভিভাবকের মতো পথ দেখিয়েছেন কয়েক প্রজন্মকে। তার সান্নিধ্য পাওয়া তারকারাও অকপটে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আজও।
তেমনই এক তারকা রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা। বাংলা গানের নন্দিত গায়িকা। রাজ্জাক প্রযোজিত সবগুলো সিনেমায় গেয়েছেন তিনি। তার কণ্ঠ এতটাই পছন্দ করতেন নায়করাজ।
রাজ্জাকের সঙ্গে প্রথম কবে দেখা হয়েছিল, সেই স্মৃতি সামনে আনলেন কনকচাঁপা। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) ফেসবুকে একটি পোস্ট করে শিল্পী লেখেন, “তার সাথে পয়লা দেখা হয় ছিয়াশি (১৯৮৬) সালে; একটা অনুষ্ঠানে। আমার নাম জেনে নিয়ে বললেন, ‘এইটুকুন মেয়ে কিভাবে এত ভালো গাইলে? তুমি ছবিতে গেয়েছো?’ আমি নিরুত্তর! উত্তর দিতে পারলে তো! মহানায়ককে চোখের সামনে দেখে হতবিহ্বল হয়ে গিয়েছিলাম।

দ্বিতীয় দেখার স্মৃতি জানিয়ে কনকচাঁপা লেখেন, “এর পর একটা প্লেব্যাক রেকর্ডিংয়ে দেখা। তিনি বললেন, ‘আমি জানতাম, এ জায়গাটা তোমার। তুমি তোমার করে নাও, আশীর্বাদ।’ আমি তখনো তাকে দেখি। এরপর উনি যত ছবি প্রযোজনা করেছেন, সবগুলো ছবিতেই আমার গান থাকতো। আমাকে ডাকতেন কনাচাঁপা। আমার সাহেবকে (স্বামী) ডাকতেন জামাইবেটা। যেন নিজের মেয়েজামাই। আমি ভাবতাম আমার সময়ে যদি রাজ্জাক-কবরীকে পেতাম! উনি বলে বসলেন, ‘আহা, আমাদের সময়ে যদি তোমাকে পেতাম!’ টুক করে পায়ে হাত দিয়ে সালাম করতেই বললেন, ‘এ মেয়ে তো পাগলি আছে!’ এত বড় একজন মানুষ, অথচ এত সহজ, ভাবাই যায় না।
রাজ্জাকের আন্তরিকতা নিয়েও অনেক কিছু জানালেন কনকচাঁপা। তার ভাষ্য, “রেকর্ডিংয়ে সবাইকে একসাথে নিয়ে তিনি খাবার খেতেন। রেকর্ডিংয়ে ভাত খাই না বলে তিনি বলতেন, ‘ওকে কাবাব এনে দাও!’ যেন খেতেই হবে। সবসময়ই তিনি তার পরিবার নিয়েই চলাফেরা করতেন। তার সন্তানেরা তারই ভদ্র শিক্ষায় শিক্ষিত, এ ব্যাপারগুলো অনেক চিন্তা না করেই বোঝা যেতো। আমাদের ছোট বেলায় দেখা রাজ্জাক ততদিনে অনেক পরিণত। সুদর্শন রাজ্জাক ততদিনে হয়েছেন রাশভারী, অনেকটাই চুপচাপ এবং অবশ্যই আরও সুন্দর। এবং তিনি এ বয়সেও হাসলেই বুঝে যেতাম, এই হাসি তাকে মহারাজা হতে অনেক এগিয়ে নিয়ে গেছে।

সবশেষে রাজ্জাকের অবদানের কথা স্মরণ করে এ কণ্ঠশিল্পী লেখেন, ‘তার সাবলীল সব সময়ের আধুনিক অভিনয় বাংলা ভাষাভাষী কেউ কখনোই ভুলবে না, এ কথা বলাই বাহুল্য। তার প্রতিভা, তার অবদান নিয়ে কথা বলার সাহস আমার নেই। তবে আমি এটুকু বুঝি, বাংলাদেশের চলচ্চিত্র দাঁড়ানোর জন্য তার শক্তি ব্যবহার করেছে স্বাচ্ছন্দ্যে। তিনি বাংলাদেশকে দিয়েছেন উজাড় করে। নায়করাজ, যেখানেই যান, ভালো থাকুন। আল্লাহ আপনাকে শান্তি দিন।
পোস্টের সঙ্গে কনকচাঁপা যে ছবি দিয়েছেন, তাতে দেখা যাচ্ছে, রাজ্জাকের এক পাশে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি; আর অন্য পাশে দাঁড়িয়ে আরেক কণ্ঠশিল্পী সামিনা চৌধুরী।
স্বাধীন একাত্তর