কিশোরগঞ্জ ও ঢাকার মধ্যে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষের ভ্রমণ সহজ ও আরামদায়ক করতে ২০১৩ সালের ১ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছিল ‘কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস’। কিন্তু গৌরবময় পথচলার এক যুগের মাথায় এসে একশ্রেণীর অসাধু রেলকর্মী ও আউটসোর্সিং স্টাফদের সিন্ডিকেটের কারণে ট্রেনটি এখন চরম অব্যবস্থাপনার শিকার। ফলে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে, আর চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ টিকিটধারী যাত্রীরা।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ট্রেনটিতে টিকিটবিহীন যাত্রী বহনের এক বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। আর এই অবৈধ যাত্রী বাণিজ্যের অন্যতম নিরাপদ আস্তানা হয়ে উঠেছে ট্রেনের ‘খাবার বগি’ (ক্যাটারিং কার)। যেখানে যাত্রীদের আরামদায়ক খাবারের পরিবেশ থাকার কথা, সেখানে গাদাগাদি করে তোলা হচ্ছে অবৈধ যাত্রী। অনুসদ্ধানে আরও জানা যায়, এই অনৈতিক বাণিজ্যের সাথে শুধু ক্যাটারিং সার্ভিসের কর্মীরাই নন, বরং ট্রেনের এটেনডেন্ট এবং পাওয়ার কারের দায়িত্বে থাকা রেলওয়ের কিছু প্রকৌশলীও প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত।
সম্প্রতি খাবার বগিতে অবৈধ যাত্রী পরিবহনের সময় হাতেনাতে ধরা পড়েন ক্যাটারিং সার্ভিসের ম্যানেজার তখন অনিয়মের সৎ উত্তর না দিয়ে উল্টো বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল ‘মাই টিভি’র সাংবাদিক হাওসান জাকির এর পরিচয় দিয়ে দাপট দেখান তিনি। এ সময় সাংবাদিক জাকিরের পরিচয় জানতে চাইলে ক্যাটারিং ম্যানেজার বলেন উনি গাজীপুর জয়দেবপুরের প্রতিনিধি , আমার ভাই ,উল্টো সাংবাদিকদের সামনেই ঔদ্ধত্য প্রকাশ করে বলেন, "আমার গাড়ি, আমি যাত্রী নেব নাকি খাবার রাখব—সেটা সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত বিষয়!"
একজন ক্যাটারিং ম্যানেজার কীভাবে ট্রেনের ভেতরে নিজের একক আধিপত্য দাবি করেন এবং মাই টিভির সাংবাদিক হাওসান জাকিরের পরিচয় দিয়ে এসব অনিয়ম করছে তা নিয়ে এখন খোদ রেলযাত্রী ও সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এসব অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার বিষয়ে কিশোরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার খলিলুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, "এই ধরনের অনিয়ম রুখতে আমি নিজেই প্রায় সময় প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে তদারকি করি। কিন্তু ট্রেনের ভেতরের স্টাফদের এই সিন্ডিকেট ভাঙতে হলে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। আপনারা সাংবাদিকরা যেভাবে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছেন, তা প্রশংসনীয়। আমি এই গুরুতর অনিয়মের বিষয়টি দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানাব এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করব।"
ভুক্তভোগী যাত্রীদের দাবি, রেলওয়ের রাষ্ট্রীয় সম্পদকে যারা ব্যক্তিগত বাণিজ্যের হাতিয়ার বানিয়েছে তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
মো: ফয়েজ উদ্দিন